কেন অনুষ্কার ট্যারট রিডিং সত্যি হলো? দার্জিলিং শর্টকাট রহস্য (Horror Story) | Why Did Anushkha's Tarot Reading Come True? The Darjeeling Shortcut Mystery (Horror Story)



রঞ্জনের বহুদিনের ইচ্ছা, গাড়ি নিয়ে দার্জিলিং যাওযার। নতুন অল্টো কিনেছে সে। তাই সে তার গার্লফ্রেন্ড অনুষ্কাকে দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দিলো। তাদের আলোচনাপর্বের দিন কয়েকের মধ্যেই রঞ্জনের বন্ধু দ্বীপ ও বিশ্বের মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানিং চলছিলো। সেই সময় রঞ্জনও দার্জিলিং যাওয়ার প্রস্তার দেয়। সে আর তার গার্লফ্রেন্ড সেখানে যাওয়ারই প্ল্যানিং করছে।

বেশ কিছুক্ষণ আলোচনার পর, তারা সিদ্ধান্ত  নিলো, বিশ্বও তার গার্লফ্রেন্ড পিংকি এবং দ্বীপ ও তার স্ত্রী আনন্দী দার্জিলিং যাবে ঘুরতে। একটি নির্দিষ্ট দিনও ফিক্স করা হলো।

যথারীতি সেই দিনেরও আগমন ঘটলো।

রঞ্জনের বাড়িতে অনুষ্কা চলে আসে সকাল সকাল। প্রায় 11টা নাগাদ তারা বেড়িয়ে পড়ে দার্জিলিং যাওয়ার উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে তারা দ্বীপ ও আনন্দী আর ওদিকে বিশ্ব ও পিংকীকে pick করে নেয়।

চলতি পথে, তারা রাস্তা থেকে বহু খাবারের জিনিস নিয়ে নেয়, চিপস, কোল্ড ড্রিঙ্কস, কেক, আরো অনেক কিছু। bore feel তারা করবে না।

বেশ আনন্দের সাথে তারা যাত্রা করতে থাকে দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে।

বহুক্ষণ ধরে গাড়ি চালানোর দরুণ, তারা গাড়ি থেকে নেমে একটু ফ্রেস হয়ে নেয়। তখন বাজে কটা! ওই 7-8 টা হবে। এখনো অনেকটা পথ! এতক্ষণ রঞ্জন  গাড়ি চালাচ্ছিলো।

অনুষ্কা ট্যারট কার্ড দেখতে পারে। কারণ সে ভালো মতো astrology এর কোর্স করেছে। এই বিষয়ে প্রত্যেকেই মোটামুটি জানে। তাই বিশ্বই সবার প্রথমে বললো, “এই অনুষ্কা, তুই তো ভালো ট্যারর্ট কার্ড দেখতে  পারিস। একবার চেক করবি নাকি?”

পিংকিও বিশ্বের হয়ে অনুষ্কাকে চাপ ‍সৃষ্টি করতে লাগলো। যা দেখে দ্বীপও ধীরে ধীরে মুখ খললো। সেও জানতে চায় বিষয়টাকে। দ্বীপের সাথে অনুষ্কার তেমনভাবে পরিচিতি নয়। তাই দ্বীপ বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপই ছিলো। সে অনুষ্কাকে বাদ দিয়ে বাকি সবার সাথেই কথা বলছিলো।

এই সুযোগে দ্বীপ ও অনুষ্কার মধ্যেও পরিচিতির সুযোগ চলে এলো। কোথাও ঘুরতে গেলে, পরিচিত সেইভাবে না হলে, ঘোরার মজাই আসে না।

যথারীতি, অনুষ্কা ট্যারট কার্ড বের করলো, প্রথমেই দ্বীপকে একটা কার্ড choose করতে  বললো।

দ্বীপ একটা কার্ড বের করলো। যা দেখে অনুষ্কা জানায়, “তোমার জীবনে এমন কিছু ঘটতে চলেছে, যা তোমার জীবনকে নতুন করে ভাবাতে শুরু করবে। সেটা ভালোও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে। সেটা সময়ই বলবে। তবে খুব শীঘ্রই এই পরিবর্তন দেখা যাবে। এই পরিবর্তনের কথা তুমি ভাবতেই পারবে না। তবে সাবধানতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দ্বীপ শুনে সামান্য মুচকি হেসে জানায়, “আমার জীবন তো এমনিই অগোছালো, পরিবর্তন হলে ক্ষতি কি?”

পাশ থেকে আনন্দী দ্বীপের হাতে হালকা করে চিপটি কেটে বলে, “তার মানে বলছো, আমি এসে তোমার জীবন অগোছালো করে দিয়েছি?”

বেশ কিছুক্ষণ হাসিঠাট্টার পর, বিশ্ব আসে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করার জন্য। একই রকমভাবে অনুষ্কা বিশ্বকে একটা কার্ড তুলতে বলে। সেই অনুযায়ী, বিশ্বও কার্ড তুলে নেয়।

অনুষ্কা ওই কার্ড দেখে সামান্য গম্ভীর হয়ে জানায়, “তোকে সাবধানতার বার্তা দিচ্ছে। এমন কিছু কর্ম করতে মানা করছে, যা তোর মন চাইছে না। সেটা না করাই ভালো। নাহলে বিশাল বড়ো ক্ষতি হতে পারে।”

রঞ্জন বলে, “তুমি তো এমন কথা বলছো, সেটা তো সবাই জানে। যেমন দ্বীপকে বলছো, পরিবর্তনের কথা। পরিবর্তন তো প্রত্যেকেরই জীবনে হয়। বিশ্বকে বলছো, মন না সাঁয় দিলে সেই কাজ থেকে বিরত থাকতে। তাও সবাই জানে। নতুন কিছু বলো।”

অনুষ্কা সামান্য বিরক্তির সাথে বলে, “এখানে যা দেখাচ্ছে, তাই বললাম। এখানে বিপদের কথাও বলা আছে।  এইগুলো না মানলে ক্ষতি হতে পারে। দ্বীপের জীবনে কি ধরনের পরিবর্তন হতে পারে জানি না। তবে এমন পরিবর্তন দেখতে পেলাম, যেটা ও কোনদিন ভাবতে পারবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই কার্ড নেগেটিভকে ইঙ্গিত করে। খুব কমই হয়, এই কার্ডের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, পরিবর্তনের ফল ভালো হয়েছে।

পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পিংকি এলো নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। প্রথমে অনুষ্কা ট্যারট কার্ড রিডিং না করতে চাইলেও, সকলের জোড়াজুড়িতে সে পুনরায় রিড করা শুরু করলো। একইরকম পদ্ধতিতে পিংকি একটা কার্ড তুলে নিলো। যা দেখে অনুষ্কা তেমন কোন উত্তর  দিলো না। তবে তার কপালে হালকা চিন্তার ভাঁজ দেখা গেলো। এবার সে দ্বীপের স্ত্রী আনন্দীকে একটা কার্ড choose করতে বলে। যা দেখ সে যেন ভীতগ্রস্থ হয়ে পড়লো। শেষে রঞ্জনকে কার্ড সিলেক্ট করতে বললে, সে কার্ড আর তোলে না। গুজব বলে সে উড়িয়ে দেয়।

অনেকটা দেরী হয়ে গেলো। এবার তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হবে। নাহলে অনেক দেরী হয়ে যাবে। আবার সময়মতো ফিরতেও তো হবে।

এবার রঞ্জন অনুষ্কাকে দিলো গাড়ি চালানোর দায়িত্ব। নেভিগেটরের দ্বায়িত্ব পালনে রত হলো রঞ্জন। গুগল ম্যাপের মাধ্যমেই তারা ডেস্টিনেশনের দিকে এগিয়ে চললো।

কিন্তু অনুষ্কা আনন্দীর ট্যারট কার্ড রিডিং এর পর বারংবার ফিরে যাওয়ার কথা বলতে থাকে। কিন্তু রঞ্জন, পিংকি, বিশ্ব জোড়াজুড়ি করায় অনুষ্কা তাদের কথা শুনতে বাধ্য হয়।

কিছুক্ষণ যাওয়ার পর, রঞ্জন জানায়, গুগল ম্যাপে একটা শর্টকার্ট রাস্তা দেখা যাচ্ছে, সামনে গিয়ে ডান দিকে বাঁক নিলেই 30 মিনিটের কম সময়ে মালদা টাউন ঢুকে যাবে। সোজা গেলে এক ঘন্টা লেগে যাবে প্রায়। তাই যথারীতি তারা শর্টকার্ট ওয়েই ধরলো।

কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ চলার পর, এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো তারা। চারপাশে কেবলই জঙ্গল, আর কিছুদুর যাওয়ার পর, খালি ফাঁকা মাঠ। জনশূন্য রাস্তা।

বিশ্ব বলে উঠলো, “কিরে রঞ্জন, কোন দিকে নিয়ে এলি? এত ফাঁকা রাস্তায় যাওয়া কি ঠিক? যদি কিছু হয়েও যায় এই সময়, হেল্প পাওয়ার মতো লোক পাওয়া যাবে না।” 

বিশ্বের সাথে সাথে সবাই রঞ্জনের উপরে চাপ দিতে লাগলো। তাই তারা ঠিক করলো, তারা আর এগোবে না, তারা ব্যাক করে মেইন রোড দিয়েই যাবে।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, বড়ো জোড় 20 মিনিট হয়তো তারা এগিয়ে এসেছে, কিন্তু ব্যাক করে ফেরার সময় 40 মিনিট কেটে যায়, তারা মেইন রোডে ফিরতে পারছে না। এগিকে সোজা রাস্তা, আঁকা বাঁকাও নয় যে, রাস্তা হারানোর ভয় থাকবে।

এবার চিন্তার ভাঁজ দেখা গিলো সবার কপালে। গাড়ি চালাতে চালাতেই অনুষ্কা বারংবার বলতে লাগলো, “এরজন্যই বলেছিলাম ফিরে যেতে।”

রঞ্জন এবার রেগে গিয়ে বললো, “সবই যখন জানতে তখন বললে না কেন?”

অনুষ্কা জবাব দেয়, “আমার কথা কি তোমরা শুনেছো?”

রঞ্জন বলে, “detail এ বললে অবশ্যই শুনতাম।”

দ্বীপ এবার সকলকে শান্ত রাখতে বলে, “কি তোরা বাচ্চাদের মতো শুরু করলি বলতো?”

আনন্দী ঠান্ডা গলায় বলে, “যখন আমরা এই situation এ পড়েছি, তখন আমাদেরকে এখন শান্ত থাকতে হবে। এখন ভাবতে হবে, এখন কি করা যায়?”

রঞ্জন অনুষ্কাকে গাড়ি থামাতে বলে। সে আসলে দেখতে চায়, তারা ঠিক পথে যাচ্ছে কিনা। কিন্তু অনুষ্কা গাড়ি থামাতে নারাজ।

সে জানায়, গাড়ি থামালে অনেক রকম ঘটনা ঘটতে পারে। এই নিয়েও রঞ্জন ও অনুষ্কার মধ্যে সামান্য ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। আবার পরিস্থিতি শান্ত করে দ্বীপ ও আনন্দী। তাদের সাথে সাঁই দেয় বিশ্ব ও পিংকি।

বেশ কিছুক্ষণ গাড়ি চলার পর, দেখতে পায় একটা পুরনো বাড়ি রাস্তার বাঁদিকে মাথা উচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেটা তারা যাওয়ার সময় দেখতে পায়নি। সেদিকে তারা গুরুত্ব না দিয়ে তারা এগিয়ে চলে।

আবার কিছুক্ষন পরে একটা লোককে দেখতে পাওয়া যায়, যে রাস্তার বাঁদিক দিয়ে যাচ্ছে। রঞ্জন কাচ নামিয়ে লোকটাকে কিছু বলতে যাবে, অনুষ্কা মানা করে এবং গাড়ি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়। যা নিয়ে রঞ্জন প্রচন্ড বিরক্তি প্রকাশ করে।

বেশ কিছুক্ষণ পর আবার সেই পুরনো বাড়িটাকে দেখতে পাওয়া যায়। তারা সকলে এবার অবাক হয়ে যায়। কিন্তু অনুষ্কা যেন শান্ত অবস্থায় রয়েছে। সকলকে বললো, “আমরা কানাভুলোর পাল্লায় পড়েছি। কেউ ভয় পাস না।  গাড়ি না থামালেই হলো। আর সবাই হনুমান চালিশা পাঠ করতে থাকে। কেউ গাড়ির কাচ খুলবি না।”

অনুষ্কার দীপ্ত কণ্ঠে কেউ কিছু বললো না। একই রকম বাড়ি বারংবার ফিরে আসার পর, বহুক্ষণ বাদে সেই লোকটাকে ওই পথ দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। রঞ্জন এবার চুপ করে বসে থাকতে না পেরে। ওই লোকটাকে কিছু বলার চেষ্টা করছিলো, কাচ খুলে।

অনুষ্কা এবার রাগান্বিত হয়ে কাচ নামিয়ে দেয় এবং তাদের মধ্যে কিছুটা হাতাহাতি হতে থাকে। ঠিক সেই সময় হঠাৎ তারা খেয়াল করলো ওই ব্যক্তিই তাদের গাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছে এবং অনুষ্কা ব্রেক মারতে যাবে, গাড়ির ধাক্কায় ওই ব্যক্তি পড়ে যায় এবং গাড়ি তার উপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু অনুষ্কা পুনরায় গাড়ি চালানো শুরু করে দেয়। এবার রঞ্জন বিরক্ত হয়ে, গাড়ি জোড়পূর্বক থামিয়ে দেয়। রঞ্জন গেট খুলে রাস্তায় নেমে পড়ে তার সাথে বিশ্ব নেমে পড়ে রঞ্জনকে আটকানোর জন্য। কারণ বিশ্ব একটু হলেও এই সমস্ত বিষয়ে বিশ্বাস করে।

রঞ্জন গাড়ির বাঁদিকে ছিলো। আবার বিশ্ব গাড়ির পিছনে বসলেও বাঁদিকেই বসেছিলো, তাই সে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে রঞ্জনকে আটকানোর চেষ্টা করে এবং দুজনের মধ্যে বচসার সৃষ্টি হয়। এদিকে আবার দ্বীপ গাড়ির পিছনের সামনের সীটের ডানদিকে বসেছিলো। সে গাড়ি থেকে নামামাত্রই আনন্দী চিৎকার করতে থাকে। কারণ আনন্দীর মুখ গাড়ির পিছানের দিকে ছিলো, কারণ দ্বীপ ও আনন্দী ওই সীটেই ছিলো। আনন্দীর চিৎকারের ফলে সবার নজর গাড়ির পিছনে রাস্তার মাঝে পড়ে থাকা ওই মৃত ব্যক্তির দিকে চলে যায়।

তারা দেখতে পায়, ওই মৃত ব্যক্তির মুখ হঠাৎ করেই উল্টো হয়ে যায় এবং            তাদের দিকে তাকিয়ে ভয়ংকরভাবে হাসতে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে ওই মৃত ব্যক্তি উল্টো হয়ে সোজা হয় এবং zombie র মতো হাঁটতে থাকে তাদের দিকে। বিশ্ব ও রঞ্জন দ্রুত গাড়িতে উঠে গেট বন্ধ করে ফেলে। ওদিকে দ্বীপ যেহেতু গাড়ির ডানদিকেরত বিশ্ব ও রঞ্জনের বচসা থামানোর জন্য গাড়ির পিছন দিক দিয়ে ডানদিকে আসতে চেয়েছিলো। তাই সে গাড়ির পিছনেই পড়ে থাকে। সামনের দিকে এগোতে চাইলেও সে যেন দ্রুত গাড়ির দিকে ফিরতে পারছিলো না। তাই বাধ্য হয়ে গাড়িটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু আনন্দী বারংবার গাড়ির থামানোর কথা বলতে থাকে। কিন্তু পিংকি ও বিশ্ব তাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং জোড়পূর্বক গাড়ির গেট বন্ধে করে দেয়। এরই সাথে আনন্দীকেও থামানোর চেষ্টা করে। গাড়ির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে আনন্দীর গাড়ি থামানোর উত্তম প্রয়াস করে চলেছে, তার কান্নার ধ্বনি। অপরদিকে পিংকি ও বিশ্বের জোড়পূর্বক তাকে আটকে রাখা। অপরদিকে রঞ্জনের ভয়ার্ত উত্তেজনা গাড়ির স্পীড দ্রুত বাড়ানো। এদিকে অনুষ্কার ঠান্ডা মস্তিষ্কে গাড়ির স্পীড নর্মল রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া। রঞ্জন যতই স্পীড বাড়ানোর কথা বলুক না কেন, অনুষ্কা যেন তার কথার গুরুত্বই দিলো না। সে কেবলই নিজের লিমিট বজায় রেখে চলেছে।

সে কেবল জানায়, “তুমি চুপ করে বসো। তুমি আমাকে ভরসা করো তো? এটা কানাভুলোর কাজ। আমরা loop circle এ আটকে গেছি। গাড়ির স্পীড বাড়ালে লাভ কিছুই হবে না। উল্টে আমরাই বিপদে পড়বো। কানাভুলো এটাই চায়। যদি আমরা স্পীড বাড়াই, ততই আমরা একই রুটে আটকে যাবো। এক সময় তেল শেষ হয়ে যাবে। এই সুযোগে গাড়ি থেমে যাবে। তখন আমাদের বশীকরণ করতে তাদের সুবিধা হবে। তখন আমরা কি করে বসবো, সেটা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারবো না। তাই তুমি আমাকে ভরসা রাখো।। আর তোমার বন্ধুকে গাড়িতে পিক করে নেবো। আমার যতদূর বিশ্বাস ওর সাথে আবার দেখা হবে কিছুক্ষণ পরেই। কারণ আমরা লুপে আটকে আছি। ওকে দেখা মাত্রই গাড়িতে তুলে নেবে।”

রঞ্জন বললো, “তাহলে গাড়ির স্পীড বাড়িয়ে দ্বীপের কাছে চলে যাই, তারপর স্লো করে দিও?”

অনুষ্কা বললো, “না! সেটা করা ঠিক নয়। কারণ তুমি হয়তো ভাবছো, গাড়ির স্পীড বাড়ালে দ্বীপের কাছে তাড়াতাড়ি চলে যাবে। এটা একদম ভুল ধারণা। কানাভুলোর কাজ হলো রাস্তা ভোলানো। loop extend করা। তাই তুমি ভালো করে ফলো করে দেখবে, গাড়ির স্পীড বাড়ালেও যে সময়ে ওই পুরনো বাড়িটা দেখেছিলে, স্পীড কমিয়েও কিন্তু একই সময়েই ওই বাড়িটা দেখা গিয়েছে।”

রঞ্জন বললো, “বাঃ! তাহলে তো দেখছি তোমার astrology নিয়ে পড়াটা স্বার্থক হয়েছে। সব জানে!”

“এরজন্য বলি আমাকে ভরসা করো!” অনুষ্কা বললো।

বেশ কিছুক্ষণ পরে, অনুষ্কার কথা মতো দ্বীপকে সামনে দেখতে পাওয়া যায়। সে রাস্তার পাশে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। যাকে দেখে অনুষ্কা গাড়ি থামালো। গাড়ি থামানো মাত্রই আনন্দী দরজা খুলে দ্বীপের কাছে চলে যায়।

সাথে সাথে অনুষ্কা চিৎকার করে বলে, “আরে ওটা দ্বীপ নয়। কাছে যেও না!” কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়, আনন্দীকে কাছে টেনে নেয় দ্বীপ। আর দ্রুত অনুষ্কা গাড়ি চালাতে থাকে। সে পিংকিকে বলে, তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করতে।

সকলেই অনুষ্কাকে অনুসরণ করতে থাকে। কারণ, প্রত্যেকেরই অনুষ্কার প্রতি ধীরে ধীরে ভরসা হতে থাকে। প্রথম থেকেই বিশ্ব অনুষ্কার এই সমস্ত বিষয়ে গরুত্ব দিতো। কারণ, সে এগুলোর প্রতি বিশ্বাস রাখে। যা কিছু সে জেনেছে, তা অনুষ্কার থেকেই জেনেছে। আর পিংকি বিশ্বের থেকে জেনেছে।

বেশ কিছুক্ষণ যাওয়ার পর সেই পুরনো বাড়ি আবার ফিরে এলো। কিন্তু দ্বীপ বা আনন্দীর কারোই দেখা মিললো না। তারা গাড়ির মধ্যেই হনুমান চালিশা চালিয়ে দেয় এবং তারা নিজেরাও মন্ত্রজপ করতে থাকে। রাত প্রায় শেষের দিকে সাড়ে তিনটে বেজে গিয়েছে।

রঞ্জন জিজ্ঞেস করলো, “তাহলে কি আমরা বাড়ি ফিরতে পারবো না? দ্বীপ বা আনন্দীকেও পাবো না?”

অনুষ্কা শান্ত কণ্ঠে জানায়, “অবশ্যই ফিরবো। এখন বাজে সাড়ে তিনটে। নেগেটিভ এনার্জির পাওয়ার ধীরে কমতে থাকবে। পৌনে চারটে বাজলেই সবাইকে পেয়ে যাবো আশা করি।”

তাদের কথপকথনের কিছুক্ষণ পরেই দ্বীপকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেলো। তাকে দেখে যে কেউ বলতে পারবে, এটাই আসল দ্বীপ। কারণ, সে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে রাস্তার একপাশে। তার সারা শরীর ধুলোয় মাখামাখি। দ্রুত তারা গাড়ি থামিয়ে রঞ্জন আর বিশ্ব মিলে দ্বীপকে গাড়িতে তুলে দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকে। এবার আনন্দীকে পেতে হবে। সে কোথায়?

ভোর চারটে বাজে। হালকা রোদের আভা দেখতে পাওয়া গেলো। দূর থেকে দেখা গেলো একটা মেয়ের হাত মুখ বাধা অবস্থায় ঝোপের ধারে পড়ে রয়েছে। সেও জ্ঞানশুন্য। অগোছালো হয়ে পড়ে রয়েছে তার দেহের পোশাক। হাতে মুখে কালসিটে দাগ। অধনগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে সে।

তাকেও কোন রকমভাবে গাড়িতে তোলা হলো। তারপর কিছুদূর যাওয়া মাত্রই তারা মেইন রোডে উঠে পড়ে। কিছুদূর যাওয়ার পরে ফারাক্কা ব্রিজ পার করে। সেখানে রঞ্জন, অনুষ্কা, পিংকি ও বিশ্ব একটা রেস্টুরেন্টি গিয়ে কিছু খাবার খেয়ে ফ্রেশ হয়ে গাড়িতে ফিরে আসে। তখনও দ্বীপ ও আনন্দীর জ্ঞান ফেরেনি।

প্রায় বিকেল পাঁচটা নাগাদ তারা জলপাইগুড়ি এসে পৌঁছায়। ততক্ষণে দ্বীপ ও আনন্দীরও জ্ঞান ফেরে। সেখানে গাড়ির মধ্যেই সামান্য বিশ্রাম নেয় প্রত্যেকে। দ্বীপ ও আনন্দীর পোশাক এতটাই নোংড়া হয়ে রয়েছে যে, তাদের সাথে আসলে কি হয়েছে, তা কাউকে তারা কোনোদিন বোঝাতে পারবে না।

নিকটবর্তী একটা দোকানে গিয়ে আনন্দী ও দ্বীপ নতুন ড্রেস কিনে এবং তা পরিধান করে দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

ড্রেস কিনতে গিয়ে সকলে আনন্দী ও দ্বীপের দিকে চেয়ে থাকে। সকলের প্রশ্নের উত্তর তো দেওয়া সম্ভব নয় না সমস্ত কিছু বোঝানো সম্ভব। কেউ বিশ্বাস করবে, কেউ বা তা নিয়ে মজা করবে।

থাকুক না কেবল একটা ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে। যা কেবল রঞ্জন, অনুষ্কা, দ্বীপ, আনন্দী, পিংকি ও বিশ্বের মধ্যেই বন্দী থাকুক। আমি কেবল তাদের জীবনের অংশীদার হয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।   

পরবর্তী পর্ব পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

Tags: Horror Story, Bengali Horror Story, Best Bengali Ghost Story, Bhoot er Golpo, Supernatural Thriller, Occult Story, Folklore Horror (লোককথা), Tarot Card Reading, Tarot Prediction, Kanabhulo (কানাভুলো), The Loop of Kanabhulo, Shortcut Mystery, Road Trip Horror, Lost on Road Trip, Haunted Road, Darjeeling Trip, Malda Shortcut, Farakka Bridge, Anushkha's Tarot, Ranjan and Friends, Real Life Ghost Experience (যদি আপনি এমন দাবি করতে চান), Scary Story, Creepy Encounter, Mind-Bending Horror, Adventure Horror, Horror Story, Bengali Horror Story, Bhoot er Golpo, Supernatural Thriller, Tarot Card Reading, Tarot Prediction, Kanabhulo, The Loop of Kanabhulo, Shortcut Mystery, Road Trip Horror, Darjeeling Trip, Malda Shortcut