শেষ স্টেশনে মা
রুপন নাথ
সালটা ছিলো 2004 (দু হাজার চার)
ট্রেনে আমি প্রথমবার
একাকীত্বের যাত্রা।
মন বড়োই অস্থির,
বিরক্তি-চাপা কান্নায়
ভারাক্রান্তা বুক।।
চেতনায় জমা
অসফলতা,
পারি দেওয়ার তালে
উদ্দেশ্যহীন যাত্রাপথে।
অর্ধশূন্য ট্রেনের ভিতর
জানালার বাইরে নজর
প্রকৃতির সাথে যেন বোঝাপড়া,
মননে মননে যেন উথালপাতাল।।
আনমনা হাওয়ায়
দৃশ্যান্তর পথের অন্তর
হঠাৎই পড়লো চোখ
সামনের সীটে।।
অসাধরণত্বের অধিকারিনী
মনমুগ্ধকর স্নিগ্ধমুখগানি
আজও চোখে ভাসে!
অতি সাধারণ পোশাকে
পরিধানরত তরুণ যুবতী
বহুক্ষণ যেন চেয়েছিলো
আমার মুখপানে!
হতবাকের সহিত
মননে কুঞ্চিত উদ্বেগ
স্নিগ্ধ চোখেই যেন
হৃদয়ে বাড়ে কম্পন।।
হয়তো কি মনে করে
প্রশ্নবান দিলো ছুড়ে
কোথায় আমার লক্ষপথ?
নিরুত্তর হয়ে থাকার চেয়ে
মিথ্যার আশ্রয়ই ছিলো শ্রেয়!
বললাম, “এইতো সামনে।”
বহু প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হলাম শেষে
ক্রদ্ধাচরণ করতে লাগলো মন
তবু যেন প্রকাশে ঘটলো ব্যাঘাত।
সমস্ত কিছু মেনে নিলাম অতি সহজে,
এতই মধুর ছিলো সেই শব্দে
ক্রদ্ধ মন যেন শান্ত হলো অতিসারে।।
শেষমেষ সত্য প্রকাশ ঘটলো অগোচরে,
বললাম সমস্ত দুঃখ-বেদনার-কথা!
সব শুনে সে যেন গুরুত্বহীন করে দেয়!
মৃদু হেসে বোঝাবার চেষ্টা করে,
মিছেই দুঃখে আছি,
কষ্টে যে আছে বহুজন।
আমার কষ্ট তো সূক্ষকেবল,
তুলনায় তো তারাই শ্রেষ্ঠ,
যাদের নেইকো ঘর,
নেইকো মাথা গোজার ঠাঁই।।
দর্শন যেন আমায়
বুঝিয়ে ছাড়লো,
অকোপটে মনে হলো,
আমার ভাগ্যই শ্রেষ্ঠ!
কেবলই আমি
বোকার মতো,
কষ্টে রওনা দিচ্ছি
উদ্দেশ্যহীন যাত্রাপথে।।
মননে মননে কেবলই হাসি,
হাসিতে লুটোপুটি,
কি যে জাদু ছিলো
সেই বাক্যে,
সাধারণ কথ্যেই
এতই আনন্দ!
হাসতে হাসতে হলো যখন
চোখ বন্ধ,
চোখ খুলে দেখি,
কেউ নেই আর সামনের সীটে।।
চলন্ত ট্রেন তখনও ছুটছে
পরবর্তী স্টেশনের উদ্দেশ্যে।
নির্মোহ বাস্তবে
যখন এলাম ফিরে,
ততক্ষণে আমি
পরবর্তী স্টেশনে।।
নেমে পড়লাম!
ভাবলাম এবার ফেরার পালা।।
হঠাৎই দেখি
সেই রমনী
লাল পার শাড়িতে,
মুখে তার প্রশান্তির আবরণ,
স্নিগ্ধ হাসিতে।।
কিছুক্ষণ পরেই দেখি,
বহু রমণীগণ রয়েছে তাকে ঘিরে,
লাল জবার মাল্য সকলের হাতে,
একে একে পরিয়ে দিলো গলে।।
হতবাক আমি!!
এতো সেই চেনা মুখ,
কোথায় যেন দেখেছি!
হঠাৎই কানের কাছে শব্দ হলো,
“উঠে পড়, উঠে পড়!”
কানে বড়ো ঝলকানি,
সবকিছু যেন
ধীরে ধীরে ধোঁয়াসা হতে লাগলো।
পরক্ষণেই ভাঙলো ঘুম,
মায়ের বকুনিতে।।
উঠতেই আমি
জড়িয়ে ধরলাম গলা।
ভাবুক মা,
কিছু বোঝার আগেই,
বুঝে গেছি আমি,
একটাই্ তো জীবন,
বেশ আছি।।
পরক্ষণেই পড়লো মনে,
সেই চেনা মুখ,
আমি তো প্রতিদিনই দিই যাঁরে পুজো,
হৃদয়ের অন্তরে থাকেন যিনি,
তিনিই তো স্বয়ং কালি মা!!
জয় জয় মা……
Tags: mother at the final station, bengali spiritual poem, maa kali poem, devotional poetry, spiritual storytelling, bengali poem recitation, bengali poetry narration, dream and reality poem, spiritual journey poem, train journey poem, indian spiritual poem, maa kali devotion, hindu devotional poem, bengali devotional content, life realization poem, emotional bengali poem, bengali spoken poetry, inner journey poem, faith and spirituality, maa kali bhakti, bengali literature, bengali storytelling, poetic short film, spiritual motivation, bengali culture poetry
