দার্জিলিং থেকে ফেরার পর আনন্দী, দ্বীপ বাড়ি ফেরার পর বেশ
ভালো কাটছিলো তাদের দিন। দ্বীপ নিজের মতো অফিসে যায়, কাজ করে, বাড়ি ফেরে। ভালোই কাটছিলো
তাদের দিন। দ্বীপের পরিবার বলতে, তার বাবা, মা, কাকা, কাকী ও তাদের দুই মেয়ে।
কিন্তু হঠাৎ করেই আনন্দীর কি হলো কে জানে। তার শরীর দিনে
দিনে অসুস্থ হতে শুরু করে। তার সবসময় পেটে ব্যাথা, রাত হলেই জ্বরে গা পুরে যায়। ডাক্তার
দেখিয়েও কোন লাভ হলো না। দিনে দিনে শরীর ভাঙতে লাগলো। তার সাথে মাঝে মধ্যেই উল্টোপাল্টা
বলতে থাকে।
দ্বীপদের পরিবার আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছন্দ হলেও আনন্দীর
অসুস্থতায় আর্থিক অনটন যেন তাদের ধাওয়া করেছে। এরজন্য দ্বীপের পরিবারের সাথে আনন্দীর
সম্পর্ক দিনে দিনে খারাপ হতে শুরু করে। সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণ একমাত্র তার অসুস্থতা
নয়, বরং তার ব্যবহার। তার ব্যবহার এতটাই তিক্ত হয়ে উঠেছিলো যে, দ্বীপের মা বাবার তার
প্রতি আর কোন ভালোবাসা রইলো না। দ্বীপ প্রায় বাধ্য হয়েই আনন্দীর সাথে ঘর করছে, তার
প্রতি দিনে দিনে যে ভালোবাসা ছিলো, তা যেন নষ্ট হতে চলেছে।
আনন্দী নাকি কথায় কথায় দ্বীপ ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে
অশ্লীল মন্তব্য করে বসে, কখনো বা সে নিজের পোশাকের দিকে গুরুত্ব দিতে ভুলে যায়। সে
যেন কেবলই নিঃসঙ্গতা খুঁজতে চায়। ঘরে একাকী কোন পুরুষ থাকলে, সেই ঘরে গিয়ে আনন্দী অশ্লীল
আচরণ করতে থাকে।
আনন্দীর এই রকম আচরণ, তার সাথে পোশাক পরিধানের ধাঁচা, এবং
তার রুগ্ন শরীর নিয়ে দ্বীপের পরিবারের সাথে আনন্দীর পরিবারের মধ্যে তুমুল ঝামেলা হয়েছিলো।
আনন্দীকে বাপের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
যেদিন আনন্দীর বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা, সেদিন আগের দিন রাতে, দ্বীপের কোন দুঃসম্পর্কের আত্মীয় তাদের বাড়িতে আসে।
প্রথমদিকে বাড়ির কেউেই তাকে চিনতে পারছিলো না। তবে পরিচয় পাওয়ার পর, তার প্রতি আতিথেয়তা
পালন করা হয়।
সেদিন রাতে সকলে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে।
পরেরদিন সকালে দ্বীপের মায়ের চিৎকারে সকলের ঘুম ভাঙে। সকলে
দৌড়ে গিয়ে দেখতে পায়, আনন্দীর ঘরে গতকাল রাতের ওই আত্মীয় তথা রাজীব বর্মনের মৃত সিলিং
ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়ারত ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
আর আনন্দী, অর্ধনগ্ন অবস্থায় খাটের এক পাশে পড়ে রয়েছে।
বহু চেষ্টার পরে, আনন্দীর জ্ঞান ফিরলে প্রথমেই সে আঁথকে ওঠে
এবং বলতে থাকে, “আমি বাঁচতে চাই। প্লিজ ছেড়ে দাও।” তার কান্না দেখে সকলের হৃদয় যেন
কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে ওঠে।
আনন্দীকে তার ঘর থেকে আনা হলো ডাইনিং রুমে। তার চোখে মুখে
জল দেওয়া হলো। কিছুক্ষণ পরে সে যেন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলো।
প্রায় মিনিট পনেরো পরেই হঠাৎ তার পুরনো রূপ ফিরে এলো এবং
পাগলের মতো বলতে লাগলো, “আমাকে বাপের বাড়ি পাঠাবি? শালা আমি তোদের উপরওয়ালার কাছে পাঠিয়ে
দেবো।”
দ্বীপ আমতা আমতা করে বললো, “তাহলে কি তুমি ওকে মেরেছো?”
একটা ভয়ংকর হাসি হেসে বললো, “কে মরেছে? কে মরেছে? তোরা সব
পাগল হয়ে গিয়েছিস! তোর মা গেছে পাগল হয়ে। চোখে তোদের ঠুলি পড়েছে। কে মরেছে? কে মরেছে?”
দ্বীপ এবার রাগান্বিত হয়ে কিছু বলতে যাবে, তৎক্ষণাৎ তার মা
আনন্দীর ঘর থেকে ছুটতে ছুটতে এসে আমতা আমতা করে বলে, “ওওওওই deadbody কোথায়? রাজীবের
deadbody নেই তো!”
তার কথা শুনে সকলে ওই ঘরে গিয়ে দেখে সেখানে সত্যিই কেউ নেই।
মনেই হচ্ছে না, এখানে কিছু হয়েছে। সমস্ত কিছু স্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে।
প্রায় বেলার 12টা নাগাদ আনন্দীর মা বাবাও চলে এলো। তারা সমস্ত
ঘটনা শুনে তারা কেবল অনুরোধ করলো, যদি কোনো তান্ত্রিকের সাথে কথা বলা যায়। কারণ, তাদের
মেয়ে এই রকম কোন কালই ছিলো না। এমনকি শ্বশুরবাড়িতে আসার পরও তো সে এই রকম আচরণ করেনি
কখনো।
তাদের কথা শুনে দ্বীপের পরিবারেও মনে হলো, কোথাও না কোথাও
তারা ঠিকই বলছে। কারণ, কদিন আগেই তো দ্বীপ ও আনন্দী দার্জিলিং থেকে ঘুরে এলো। তখনও
তো ভালোই ছিলো।
বলা বাহুল্য, সেদিন দার্জিলিং এ তাদের সাথে কি হয়েছিলো. তা
তারা বাড়িতে কিছুই জানায়নি।
সেই মূহুর্তে, দ্বীপ ধীরে ধীরে মুখ খুললো। সেদিন দার্জিলিং
যাওয়ার পথে কি হয়েছিলো, তা সমস্ত কিছু জানায়। যার দরুণ দ্বীপের উপরে যেন সকলেই ক্ষুব্ধ
হয়। তাকেই দোষারোপ করতে থাকে। তার সাথে দোষারোপ করে রঞ্জন ও অনুষ্কাকে। যদি রঞ্জন শর্টকার্ট
না নিতো, তাহলে কিছু হতো না। কিন্তু ভাগ্যে কি লেখা থাকে, তা কি গুগল ম্যাপ ক্যালকুলেট
করতে পারে?
দ্বীপ এই বিষয়ে আর তর্ক না করে, সে খোঁজ করতে লাগলো, ভালো
তান্ত্রিক কোথায় পাওয়া যায়।
শেষমেষ দ্বীপের পরিবার এক তান্ত্রিকের খোঁজ পায় এবং তাকে
বাড়িতে ডেকে আনা হয়।
তন্ত্রসাধনার বলে আনন্দীকে বশীকরণ করা হয় এবং জানা যায়, তার
মধ্যে এক পিশাচ ভর করেছিলো। যার দরুণ সে প্রচন্ড কামুক হয়ে যায়। তার প্রয়োজন ছিলো কেবল
এক শরীরের। যার দ্বারা সে শারীরিক ক্ষুধা মেটাতে পারে। বহু চেষ্টার পরে ওই পিশাচকে
বশীকরণ করতে সম্ভব হয় এবং আনন্দীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়।
তন্ত্রসাধনার বলে, তান্ত্রিক যেরূপ ব্যাখা করে, তা থেকে বোঝা
যায় যে, সেদিন রাতে দার্জিলিং যাওয়ার পথে, তাদের সাথে যা হয়েছিলো, তা অনেকটা এই রকম
–
অনুষ্কা গাড়ি চালাচ্ছিলো, মতবিরোধের দরুণ রঞ্জন ও অনুষ্কার
মধ্যে বচসা ও হালকা হাতাহাতি হয়, যার দরুণ এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয় তারা। গাড়ি কিছুটা
এগিয়ে যায় এবং ওই মৃত ব্যক্তির দেও গাড়ির পিছনে পড়ে থাকে। ওই মুহুর্তে রঞ্জন গাড়ি থেকে
নেমে পড়ে এবং রঞ্জনকে আটকানোর চেষ্টা করে বিশ্ব। হঠাৎ করে আনন্দী চিৎকার করে ওঠে, কারণ
সে পিছনে দেখতে পায় ওই মৃত ব্যক্তি ধীরে ধীরে উঠে পড়েছে। সে আসলেই মৃত ব্যক্তি। আশেপাশে
কোন কবরস্থান ছিলো। সেখান থেকে সদ্যজাত মৃতদেহকে নিমিত্ত করেছিলো পিশাচ। আর তাকে সাহায্য
করেছিলো কালাভুলো নামক এক ভয়ংকর প্রেতাত্মা, যারা কেবল রাস্তা ভোলাতে সক্ষম। তারা এমনভাবে
illusion তৈরী করে যে, কোনটা সঠিক পথ আর কোনটা বেঠিক সাধারণ মানুষ সেটা বুঝতেই পারে
না। ফলে তারা একই রাস্তায় ঘুরতে থাকে।
সেদিন আনন্দীর চিৎকারে রঞ্জন ও বিশ্ব গাড়িতে উঠে পড়লেও দ্বীপ
বাইরেই থেকে যায়। তখনও দ্বীপের কিছু হয়নি। সেদিন দ্বীপের কাছে ওই মৃত ব্যক্তি কাছে
এসেছিলো ঠিকই, তাকে দেখে দ্বীপ জ্ঞান হারায়। বেশ কিছুক্ষণ পরে অনুষ্কারা একই রাস্তায়
ফিরে আসে। কিন্তু দ্বীপকে দেখামাত্রই আনন্দী গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। আসলে সেদিন দ্বীপের
মধ্যে দ্বীপ ছিলো না। ছিলো ওই ভয়ংকর পিশাচ। অনুষ্কা সেদিন বারংবার বারণ করা সত্ত্বেও
আনন্দী গাড়ি থেকে নেমে পড়ে।
আনন্দী গাড়ি থেকে নামামাত্রই দ্বীপ তাকে জড়িয়ে ধরে এবং তার
উপরে পাশবিক অত্যাচার করতে থাকে। গভীর জঞ্জলের একপাশে আনন্দীকে একাধিকবার ধর্ষণ করতে
থাকা দ্বীপের মধ্যে থাকা পিশাচ। ভোর রাতে শরীর
ধারণে অক্ষম হতে থাকলে, দ্বীপের শরীরকে রাস্তার একপাশে ফেলে রাখে। তাই দ্বীপের জামা
কাপড় সেদিন এত অগোছালো, এত কাদা লেগেছিলো গায়ে। অপরদিকে আনন্দী ওইরকম অর্ধনগ্ন অবস্থাতেই
রাস্তার একপাশে পড়ে থাকে। কানাভুলোর শক্তি
হ্রাস পাওয়ামাত্র সূর্যের আলোয় তাকে রাস্তার মাঝে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরবর্তী ঘটনা তো আপনারা জানেনই। আগের পর্ব নিচের লিঙ্কে ক্লিক
করে পড়ে নিনঃ
দ্বীপ ও আনন্দীকেকে বাইরে ফেলে রেখে নিজেরা এগিয়ে যাওয়াকে
স্বার্থপরতা বলে মনে করে দ্বীপের পরিবার। ভুল বোঝে রঞ্জন ও অনুষ্কাকে। কারণ অনুষ্কার
কারণেই আজকে আনন্দীর এই অবস্থা। কিন্তু তারা মানতে নারাজ, বারংবার বারণ করা সত্ত্বেও
আনন্দী গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। দ্বীপের আসলে সেদিন কিছুই হতো না। গাড়ি থামালে গাড়ির মধ্যে
থাকা প্রতিটা নারীর সাথেই অঘটন ঘটতো। পুরুষদের কিছুই হতো না। তবু দ্বীপের পরিবার রঞ্জনদের
ভুল বুঝতে থাকে। হয়তো দ্বীপ ও আনন্দীর আর কোনদিন গ্রুপট্যুর হবে না। তবে সম্পর্কের
ফাটল সেই রকম না ধরলেও দ্বীপ আজকাল রঞ্জনের থেকে দুরুত্ব বজায় রাখে। আর দ্বীপের মাধ্যমেই
আনন্দীর সাথে রঞ্জন ও অনুষ্কার আলাপ। সুতরাং একপ্রকার দেখতে গেলে সম্পর্কে চ্ছেদ ধরেই
গেলো।
Tags: bengali horror story, bangla horror golpo, darjeeling horror story, darjeeling shortcut mystery, pisach possession bengali, tantric horror bengali, bangla bhoutik golpo, real bengali horror, ghost possession story, indian horror story bengali, psychological horror bengali, horror thriller bangla, bangla suspense story, possessed woman horror, exorcism bengali story, tantric exorcism india, bengali paranormal story, haunted journey story, night horror bangla, bengali scary story, horror story in bengali, bengali mystery horror, indian paranormal horror, true horror style story, bangla horror narration, horror youtube bengali, scary bengali story, supernatural bengali story
.jpg)